আমাকে একটু দেখুন।

Loading...

Friday, 21 June 2013

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা “আনন্দ পাঠ”


জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি

 আনন্দ পাঠ
অনুচ্ছেদটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আলী কোজাই নামে বাগদাদে এক লোক বাস করত। সে হজব্রত পালনের জন্য মক্কায় যাওয়ার সময় জীবনের সঞ্চয় কলসিতে লুকিয়ে তার ওপরে জলপাই ভরে বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে গেল। আলী কোজাই ফিরে এসে বন্ধু নাজিমের কাছ থেকে কলসি নিয়ে গিয়ে দেখল তাতে মোহর নেই, শুধুই জলপাই আছে। আলী তখন কাজির দরবারে নালিশ করলে কাজি নাজিমকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে নাজিম তার কলসি যথানিয়মে ফেরত দিয়েছে বলল। আসলে নাজিম আলীর সেই সঞ্চিত ধন অর্থাৎ মোহরগুলো পেয়ে সিন্দুকে ভরে রেখেছিল।
প্রশ্ন
ক. গল্পাংশ কোন দেশের পটভূমিতে রচিত?
খ. আলী মূল্যবান মোহরের ওপর জলপাই রাখল কেন?
গ. উদ্ধৃতিতে বন্ধুর প্রতি নাজিমের আচরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরো।
ঘ. উদ্ধৃতির আলোকে আলী ও নাজিম চরিত্রের তুলনামূলক মূল্যায়ন করো।

উত্তর: ক. গল্পাংশ ইরাকের পটভূমিতে রচিত।

উত্তর: খ. আলী মূল্যবান মোহরের ওপর জলপাই রাখল। কারণ, কেউ যেন জানতে না পারে এর ভেতর মোহর রয়েছে।
আলীর সারা জীবনের সঞ্চয় করা মোহরের কথা বন্ধু নাজিমের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। মক্কায় হজ পালনের জন্য যাওয়ার সময় সেই কলসিটি সে তার বন্ধু নাজিমের কাছে গচ্ছিত রেখে যায়। কলসিতে রাখা মূল্যবান মোহরগুলোর কথা নাজিম যেন জানতে না পারে সে জন্য আলী মোহরের ওপর জলপাই রেখে দেয়।

উত্তর: গ. উদ্ধৃতিতে নাজিম তার বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার মতো জঘন্য অপরাধ করেছে।
উদ্দীপকে আলীর প্রতি নাজিমের আচরণে আমরা এই বিশ্বাসঘাতকতার চিত্রটিই দেখতে পাই। বন্ধু নজিমকে সৎ ও আস্থাভাজন ভেবে তার কাছে নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় গচ্ছিত রেখে হজ পালনের জন্য যায় আলী। কিন্তু নাজিম বন্ধুর আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়।
লোভের বশবর্তী হয়ে সে বন্ধুর আমানতের খেয়ানত করে। বিশ্বাষ ভঙ্গ করার মাধ্যমে নাজিম বন্ধুর প্রতি অত্যন্ত অন্যায় আচরণ করে। সে নিজের বন্ধুর প্রতি সহনশীল আচরণ করতে পারেনি। তাই নাজিমের চরিত্রের মধ্যে আমরা বন্ধুর প্রতি অসদাচরণ করতে দেখি। আলী যে বিশ্বাসের ওপর বন্ধুর কাছে তার সারা জীবনের সঞ্চয় রেখে গিয়েছিল তার ওপর নাজিমের লোভ আমাদের বন্ধুর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতারই নমুনা দেখায়।

উত্তর: ঘ. উদ্ধৃতির আলোকে বন্ধুর প্রতি বিশ্বাসহীনতার বিচারে আলী ও তার বন্ধু নাজিমের চরিত্রের মধ্যে বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়।
আলী ছিলেন সত্যবাদী, সৎ ও ধার্মিক ব্যক্তি। সারা জীবনের সঞ্চিত অর্থ বন্ধুকে বিশ্বাস করে তার কাছে গুচ্ছিত রেখে সে মক্কায় পবিত্র হজ পালন করতে যায়। এর মাধ্যমে আমরা তার ধার্মিকতারও পরিচয় পাই। বিপরীত দিকে তার বন্ধু নাজিম একজন বিশ্বাসঘাতক।
নাজিম তার বন্ধুত্বের সম্মান রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, সে তার বন্ধুর অর্থের ওপরে লোভের দৃষ্টি ফেলেছে এবং সে লোভ সে সংবরণ না করেই আলীর মোহরগুলো লুফে নিয়েছে। এতে আমরা তার চরেত্রে বেইমানিত্বের প্রমাণ পাই; পাই বন্ধুর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ।
হজে যাওয়ার প্রাক্কালে আলী তার সারা জীবনের সঞ্চয় বন্ধু নাজিমের কছে আমানত হিসেবে রেখে যায়। অথচ নাজিম সেই আমানত খেয়ানত করে বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। আলী তার বন্ধুকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেনি। তাই সে কলসির নিচে মোহর রেখে ওপরে জলপাই দিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল। নাজিম সেই মোহরগুলো সরিয়ে কলসিটি জলপাই দিয়ে পরিপূর্ণ করে বন্ধুকে ধোঁকা দেয়। এর মাধ্যমে নাজিমের লোভী, মিথ্যাবাদী, বিশ্বাসঘাতকতা ও ধূর্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পারিচয় পাওয়া যায়। অন্যদিকে আমরা আলীর চরিত্রে সত্যবাদিতা ও সচ্চরিত্রের নমুনা পাই।

No comments:

Post a Comment